বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি পিএসসির সদস্য পদে বহাল থাকবেন। এ দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেটিই হবে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা।

অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। তিনি বিভাগটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিক্ষক পরিচিতি অনুযায়ী, বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে বাংলা ছোটগল্প ও মধ্যযুগের সাহিত্য তাঁর গবেষণার আগ্রহের বিষয়।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি ছিলেন। ওই বছরের ১ আগস্ট নিজের কার্যালয় থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ ছাড়া অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবরের নিয়োগসংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সংগঠনটির বর্তমান কমিটিতে তাঁর কোনো পদ নেই।

পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। নতুন সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শামীমা সুলতানার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কমিশনের সদস্যসংখ্যা ১৯-এ দাঁড়িয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।