কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন দিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২। রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম ইউনিটটি গ্রিডে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ইউনিটটি তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করবে না; স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট-২ বন্ধ হয়ে যায়। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটির মূল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি ফিড ইউনিট বা বয়লার ফিড পাম্পে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তার কারণে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।
ইউনিট-২ বন্ধ হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৫০ থেকে ৭৬০ মেগাওয়াটে।
রোববার সকালে ইউনিট-২ পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে আদানি পাওয়ার। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে এবং এরপর জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। তবে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।
ইউনিট-২ বন্ধ হওয়ার সময় এমনিতেই দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ছিল। ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৯০৭ মেগাওয়াট, বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট—অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৮৬৯ মেগাওয়াট।
সাম্প্রতিক সময়ে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও কিছু বিঘ্ন ঘটেছে। এর আগে ভারতের রেলপথে কয়লা পরিবহনে জট ও লোডিংয়ে বিধিনিষেধের কারণে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহ কমে যায়। আদানি পাওয়ার তখন জানিয়েছিল, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা উৎপাদন সমন্বয় করে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে ইউনিট-২ ফের চালু হওয়ার দিনই বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়েছে। ফলে আদানির ইউনিট-২ ফিরে আসায় সরবরাহে যে বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হওয়ার কথা, তার কিছুটা চাপ অন্য একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আবার তৈরি হয়েছে।
তবু ইউনিট-২ স্বাভাবিক উৎপাদনে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যোগ হবে। চলমান ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে এই বাড়তি সরবরাহ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
