নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে আবারও তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে একই বিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় এলাকায় হঠাৎ তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলে জানা গেছে।

এর আগে একই বিদ্যালয়ে একই ধরনের ঘটনায় ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছিল। পরপর দুইবার এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যালয়ের কাছাকাছি ধানক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশকের গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে বিদ্যালয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গন্ধের উৎস শনাক্ত করতে আশপাশের পরিবেশ এবং কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের আশপাশে কৃষিজমিতে বিভিন্ন সময় কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। বাতাসের সঙ্গে এসব রাসায়নিকের গন্ধ বিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে কীটনাশকই অসুস্থতার একমাত্র কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নমুনা পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে।

একই বিদ্যালয়ে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিভাবকরা বিদ্যালয় এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।