চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব তৈরি করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়ন হলো—কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরানগড় ও খাগরিয়া। এই ছয়টি ইউনিয়ন বর্তমানে সাতকানিয়া উপজেলার অংশ হলেও সংসদীয় আসনের হিসাবে এগুলো চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে চন্দনাইশ উপজেলাও রয়েছে।

নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগটি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের পাঠানো ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।

তবে এই পর্যায়ে নতুন উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশাসনিক সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ সেটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত ছয় ইউনিয়নের আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি নতুন নয়। চট্টগ্রাম-১৪ আসন নিয়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনী আলোচনাতেও এসব এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনিক সেবা ও উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। সাতকানিয়ার এই ছয় ইউনিয়ন ও চন্দনাইশ মিলে বর্তমানে একটি সংসদীয় আসন গঠিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা উপজেলা গঠনের দাবি রয়েছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী প্রতিবেদনেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন, সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়ন ভৌগোলিকভাবে সাতকানিয়ার অংশ হলেও সংসদীয় আসনে চন্দনাইশের সঙ্গে যুক্ত থাকায় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এর আগে চলতি বছর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সরকার নতুন উপজেলা ও থানা গঠনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুনে নিকারের ১২১তম সভায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর, কুমিল্লার বাঙ্গরা ও ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও নামে তিনটি নতুন উপজেলা এবং চট্টগ্রামে হালদা নামে একটি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফটিকছড়ি উত্তর পরে দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে গেজেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের উদ্যোগটিও চলমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ধারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

এখন জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করবে। এরপর নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, আপাতত সাতকানিয়া ভাগ হয়ে নতুন উপজেলা হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ছয় ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, আর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের ওপর।