গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌ/ন নিপী/ড়নের অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তাঁর দাবি, সন্তানের প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিকার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মা/মলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুমি জানান, ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানানোর পরও তিন দিন অপেক্ষা করে কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। এরপর বিষয়টি জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ঘটনা সম্পর্কে জানেন না বলে জানান। রুমির দাবি, পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।
রুমি বলেন, উপস্থিত লোকজনের সামনে ওই শিক্ষক তাঁর মেয়ের সঙ্গে জোরাজুরি ও চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, জোরাজুরির কথা শোনার পরও তিনি শিক্ষককে আঘাত করেননি; তবে চুমু দেওয়ার কথা শুনে অভিভাবক হিসেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এরপর কী ঘটেছে, তা ভিডিওতে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা ও ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে রুমি দাবি করেন, সেখানে একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছিল এবং তিনি এর ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে তাঁর কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে বিষয়টি যাচাইয়ের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগে মা/মলা করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
রুমি আরও দাবি করেন, মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নারী শিক্ষক দেওয়ার আশ্বাস পেয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে আস্থা রেখে মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন এবং শিশুটির মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন রুমি। এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা প্রয়োজন।
নিজের বিরুদ্ধে হু/মকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন রুমি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে এবং মা/রধর ও গু/মের হু/মকি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব হু/মকির পেছনে কারা রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রুমি বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন; বরং ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের আড়ালে কেউ অন্যায় করলে তার জবাবদিহি চান। তাঁর দাবি, মেয়ের নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করাই ছিল মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য। এ সময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধু থাকার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলারও সমালোচনা করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে মা/মলা হওয়ার খবর পেয়েছেন জানিয়ে রুমি বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। আইন অনুযায়ী দায়ী সাব্যস্ত হলে সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিশুটির প্রতি নিপী/ড়নের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির প্রতি নিপী/ড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ নেওয়ার পাল্টা অভিযোগের তদন্ত আলাদাভাবে হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের। শিশুটির পরিচয় ও মানসিক নিরাপত্তা রক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।




