আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির ঘটনাকে একটি মামলার আওতায় এনে বিচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

৩০ আগস্ট প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী তদন্ত এগোতে পারলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রায় ২৫০ ভুক্তভোগীর বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া এসব ব্যক্তির ঘটনার ধরন ও পদ্ধতিতে মিল রয়েছে। সে কারণে ঘটনাগুলোকে ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ বা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা অনেক ব্যক্তি ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের কোথা থেকে, কবে এবং কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই তথ্যও চিহ্নিত করার কাজ হয়েছে।

২৫ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, গুম হয়ে এখনো ফিরে না আসা প্রায় ২৫০ ব্যক্তির বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এসব ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসিকিউশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২৫০টি ঘটনাকে একই মামলার কাঠামোর মধ্যে আনা হলেও প্রতিটি ভুক্তভোগীর জন্য আলাদা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আসামির পরিচয় থাকবে। প্রধান কৌঁসুলির যুক্তি, এতে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের সামগ্রিক চিত্র আদালতের সামনে তুলে ধরা সহজ হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সময়ও সাশ্রয় হতে পারে।

তবে ট্রাইব্যুনালে গুম সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। প্রধান কৌঁসুলির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অভিযোগ মিলিয়ে মোট সংখ্যা ৫০০ থেকে ৭০০টির মতো হতে পারে। এর মধ্যে ‘মায়ের ডাক’ থেকে ১১০টি এবং ‘গুম ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর বাইরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় আরও পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইলিয়াস আলীর গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি ২৫ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের অভিযোগের মামলায় সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২৭ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

গুমের প্রায় ২৫০ ঘটনার তদন্তে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন এবং প্রধান কৌঁসুলিসহ প্রসিকিউশনের কয়েকজন সদস্য সরাসরি তদন্ত তদারকি করছেন। এখন মূল নজর সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা এবং এরপর এসব অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকে।