খাবারে বিষাক্ত সীসা নিয়ে উদ্বেগ, যা বলছেন মাহবুব কবির মিলন

দেশের খাদ্যপণ্য ও নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রীতে ক্ষতিকর সীসা বা লেডের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। খাদ্যদূষণ ও ভারী ধাতুর ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এর আগে সয়াবিন তেলে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। ওই গবেষণার বরাত দিয়ে তাঁর বক্তব্যে সীসা, নিকেল ও কপারের উপস্থিতির কথা উঠে আসে।

সয়াবিন তেলে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

১১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাহবুব কবির মিলনের ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের একটি গবেষক দলের সয়াবিন তেলে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে করা গবেষণা আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণায় সয়াবিন তেলে সীসা, নিকেল ও কপারের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য মাত্রার তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

তবে গবেষণার মূল প্রতিবেদন, নমুনার সংখ্যা, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং কোন মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সীসা কেন এত বিপজ্জনক

সীসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু। এটি শরীরে জমতে থাকলে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি গুরুতর।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ১৪ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশের রক্তে সীসার মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পাওয়া গেছে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও এই হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীসার সংস্পর্শ শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও আচরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভের শিশুর বিকাশও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কোথা থেকে ছড়াচ্ছে সীসা

বাংলাদেশে সীসা দূষণের অন্যতম উৎস পুরোনো সিসাযুক্ত ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ভাঙা ও পুনর্ব্যবহার করা। এসব কার্যক্রম থেকে নির্গত দূষিত ধুলা ও মাটি আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া নিম্নমানের রং, দূষিত মসলা, খেলনা, কিছু রান্নার সামগ্রী এবং অনিরাপদ শিল্পকারখানাও সীসা দূষণের উৎস হতে পারে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২৪ মে ২০২৬ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও শিল্পকারখানাকে সীসা দূষণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন

সীসা দূষণ প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যপণ্যের নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সীসার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা জরুরি। ইউনিসেফের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের হাত নিয়মিত সাবান দিয়ে ধোয়া, দূষিত মাটি ও ধুলা থেকে দূরে রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য ও রান্নার সামগ্রী ব্যবহার করা উচিত।

খাদ্যে ক্ষতিকর সীসার উপস্থিতি নিয়ে মাহবুব কবির মিলনের বক্তব্য নতুন করে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এনেছে।