জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার উত্তরা বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ডেস্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, নতুন ডেস্কটি জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরনের ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের অর্ডার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানের বড় বাজারে নজর
জাপানের পোশাক বাজারের আকার প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার। এই বড় বাজারে বাংলাদেশের অংশ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য এরই মধ্যে প্রায় ১০০টি পোশাক কারখানা নির্বাচন করেছে বিজিএমইএ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল তেইজিন ফ্রন্টিয়ার, মারুবেনি করপোরেশন, ইতোচু করপোরেশন এবং টয়োটা সুসো করপোরেশন। এতে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগটির গুরুত্বও সামনে আসে।
বাজার বহুমুখীকরণে জোর
বিজিএমইএর ভাষ্য, প্রচলিত কয়েকটি রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের উপস্থিতি বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে পোশাকের বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি জাপান ডেস্ক চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর আশা, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
শুধু বড় অর্ডার নয়, ছোট ক্রেতার দিকেও নজর
জাপানের বাজারে ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি আকারের অর্ডারও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে বিজিএমইএ। নতুন ডেস্কের মাধ্যমে এসব অর্ডারের জন্য উপযুক্ত বাংলাদেশি কারখানা খুঁজে দেওয়া এবং ক্রেতা-রপ্তানিকারকের যোগাযোগ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী আকর্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক রোডশোর উদ্যোগও নিয়েছে বিজিএমইএ। জাপানের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও নতুন বাজারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য নতুন বাজার তৈরি ও বিদ্যমান বাজারে অংশ বাড়ানোর এই উদ্যোগের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসার ব্যয় এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। জাপান ডেস্ক সেই বৃহত্তর বাজার বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার একটি নির্দিষ্ট উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।



