বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ২১টি উড়োজাহাজ। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১১টি Boeing এবং ১০টি Airbus উড়োজাহাজের জন্য চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

বর্তমানে বিমান ১৯টি উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। প্রস্তাবিত নতুন ২১টি উড়োজাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হলে আগে করা অর্ডারসহ বিমানের অপূর্ণ উড়োজাহাজ অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি।

Boeing-এর সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে ১১টি Boeing উড়োজাহাজের বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। তবে এসব উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে এপ্রিল মাসে Boeing-এর সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বিমান। ওই প্যাকেজে রয়েছে আটটি 787-10, দুটি 787-9 এবং চারটি 737 MAX 8। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা।

Airbus-এর প্রস্তাবে ১০ উড়োজাহাজ

Airbus-এর সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে চারটি A350-900 এবং ছয়টি A321neo থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর আগে মে মাসে Airbus বিমানকে একই ১০ উড়োজাহাজের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করছে।

Airbus প্রস্তাবে উড়োজাহাজের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল, পাইলট ও কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ, বহর পরিকল্পনা এবং কেবিন নকশার মতো সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানা গেছে।

কেন এত বড় বহর

বিমান কর্তৃপক্ষ ও সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন রুট চালু এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বিমানের বহর বাড়ানো প্রয়োজন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও বলেছেন, বিমান বর্তমানে উড়োজাহাজ সংকটে রয়েছে এবং দ্রুত নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুনে সংসদে দেওয়া তথ্যে তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৪টি Boeing কেনার চুক্তি করা হয় এবং আরও উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল।

বিমানের বর্তমান বহরে পাঁচটি টার্বোপ্রপ, চারটি Boeing 777, চারটি Boeing 787-8, দুটি Boeing 787-9 এবং চারটি Boeing 737-800 রয়েছে।

Boeing-এর পাশাপাশি Airbus কেন

নতুন পরিকল্পনায় Boeing-এর পাশাপাশি Airbus যুক্ত হওয়ায় বিমানের বহর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে বিমানের বহরের বড় অংশই Boeing-এর তৈরি উড়োজাহাজ; মে মাসের এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছিল, ১৯টির মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ Boeing-এর।

Airbus-এর প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও আগ্রহ দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিমানের উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সব সরবরাহকারীকে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারি ক্রয়ে বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন।

তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, Boeing বা Airbus—কোনো একটি দেশের চাপের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের বক্তব্য, বিমানের প্রয়োজন এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতের চাহিদা বিবেচনা করেই বহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এখনো যেসব বিষয় পরিষ্কার নয়

২১টি নতুন উড়োজাহাজের সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ হয়নি। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজগুলো কোন কোন রুটে ব্যবহার করা হবে এবং পুরোনো উড়োজাহাজগুলোর কোনগুলো কখন বহর থেকে বাদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে, বিমানের নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তা শুধু দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকার আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে; এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের Category 1 মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, ১৪টি Boeing কেনার চুক্তির পর আরও ২১টি উড়োজাহাজের সম্ভাব্য অর্ডার বিমানের বহরকে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনারই অংশ। তবে এই সম্প্রসারণ বাস্তবে কত দ্রুত হবে, কত ব্যয়ে হবে এবং নতুন উড়োজাহাজগুলো কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হবে—তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি, অর্থায়ন ও সরবরাহ পরিকল্পনার ওপর।