মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে শুনানির সময় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজনার মধ্যে একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
আখতারুজ্জামানকে রিমান্ড শেষে দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে পুলিশ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে। শুনানি শুরুর আগে আদালতকক্ষে আইনজীবীদের দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলা ২টা ৪১ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে আসেন। তখনও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান এবং পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে কয়েক মিনিট পর আবার শুনানি শুরু করেন।
শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক আখতারুজ্জামানের জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরের ঘটনার অভিযোগ সঠিক নয় এবং আখতারুজ্জামান সেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে জানায়, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
আদালতের কার্যক্রম শেষে আখতারুজ্জামানকে নিচে নামানোর সময়ও বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে। ২ অক্টোবর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। ওই দিনই ডিবি পুলিশ রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।
পরদিন আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর মদিনা থেকে ৩৪ সদস্যের একটি জামায়াতের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলির সংকট তৈরি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আখতারুজ্জামান বিএনপি থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।



