মাত্র ৪৫ দিনের শিশুকন্যা সাদিয়া ঘুমিয়ে ছিল বিছানায়। মা বৃষ্টি বেগম কিছুক্ষণের জন্য ঘরের বাইরে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখেন, বিছানায় নেই তাঁর সন্তান। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, শিশুটিকে অন্যের কাছে ৩৫ হাজার টাকায় বি/ক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরেছে সাদিয়া।
ঘটনাটি বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকার। গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সোহেল ও বৃষ্টি দম্পতির ৪৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু সাদিয়া নিখোঁজ হয়। শিশুটির বাবা সোহেল সবজি বিক্রি করেন, আর মা বৃষ্টি স্থানীয় বাজারে মাছ কাটার কাজ করে সংসারে সহায়তা করেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার ২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার দুই দিন আগে সোহেল কাজের প্রয়োজনে বরগুনায় গিয়েছিলেন। এ সময় বৃষ্টি প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ওরফে কবিরাজ নাসিমার কাছ থেকে ঝাড়ফুঁক, তদবির ও তাবিজ-কবজ নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন নাসিমা বৃষ্টিকে একটি কাগজ পোড়ানোর জন্য পাশের একটি বাড়ির পেছনে পাঠান। সেখান থেকে ঘরে ফিরে বৃষ্টি দেখেন, বিছানায় তাঁর শিশুকন্যা নেই।
শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ২২ অক্টোবর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বৃষ্টি। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শিশুটির মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে গত ১ নভেম্বর রাতে নাসিমা বেগমকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে অন্যের কাছে বি/ক্রি করার বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, নাসিমা বেগম স্থানীয় মৌরি নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বি/ক্রি করেন বলে তদন্তে জানা গেছে। পরে মৌরি শিশুটিকে তাঁর সন্তানহারা বড় বোন সম্পার কাছে দেন। সম্পা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিলেন। পুলিশের তৎপরতার পর মৌরি শিশুটিকে নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হন। পরে পুলিশ সাদিয়াকে তার মা বৃষ্টির কোলে ফিরিয়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে সম্পা জানান, তাঁর দুটি সন্তান মা/রা গেছে। তিনি কোনো অসহায় বা দরিদ্র পরিবারের সন্তান দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। শিশুটি যে চু/রি করে নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন। পুলিশের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসেন।
সম্পার মা-ও জানান, বোরকা পরা মুখঢাকা এক নারী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ১৫ হাজার টাকায় শিশুটিকে বি/ক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি ওই নারীর কাছ থেকে শিশুটিকে কিনে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন। পরে শিশুটি চু/রি করা বলে জানতে পেরে তা ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনায় নাসিমা বেগম ও মৌরি নামের দুজনকে আ/টক করেছে পুলিশ। তবে নাসিমা বেগম শিশুচু/রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন; ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা হবে।
দীর্ঘ ১৪ দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর মা বৃষ্টি। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।