যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় বেঁচে যাওয়া বন্দি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি এখন কথা বলছেন। গত সপ্তাহে তাকে দুই দফা প্রা/ণঘা/তী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তার মৃ/ত্যু হয়নি। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন অচেতন থাকার পর তিনি এখন সচেতন অবস্থায় আছেন। তবে এখনও গুরুতর চিকিৎসা চলছে এবং তার ভবিষ্যৎ শারীরিক অবস্থা কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
আইনজীবীদের ভাষ্য, মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার সময় তার দুই হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। শিরায় ওষুধ দেওয়ার একাধিক প্রচেষ্টার কারণে হাত ফুলে যাওয়া, পোড়া দাগ এবং টিস্যু ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, এত গুরুতর শারীরিক অবস্থার মধ্যেও পাইককে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে হাতকড়া ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসাজনিত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পাইকের আইনজীবীরা তার জ্ঞান ফিরে আসাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তারা এটাও বলেছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ পাইককে পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও তার মৃ/ত্যু না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা হয় এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই রাতের প্রক্রিয়া নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ প্রয়োগের পদ্ধতি, ডোজ, শিরা শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা ব্যর্থ মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি, ব্যবহৃত ওষুধের তথ্য, ভিডিও, চিকিৎসা রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সংরক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হ/ত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। পরে তাকে মৃ/ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
পাইকের পক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তার শৈশবের নি/র্যা/তন, অবহেলা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো দণ্ড নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এসব যুক্তির ভিত্তিতে তারা শা/স্তি কমানোর আবেদনও করেছেন।
মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর টেনেসিতে এ পদ্ধতির নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একবার ব্যর্থ হওয়ার পর আবার একই ব্যক্তির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা সাংবিধানিক ও মানবাধিকারগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।
এখন পাইকের চিকিৎসা, শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে মৃ/ত্যুদণ্ডের পরবর্তী আইনি অবস্থান কী হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
