ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সাব-রেজিস্ট্রার বদলি এবার লটারির মাধ্যমে করা হবে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। লটারিতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমানে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্য থেকে ঢাকা জেলার নির্ধারিত পদগুলোর জন্য কর্মকর্তাদের বাছাই করা হবে। লটারি কার্যক্রমে আইনমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বদলির এই পদ্ধতির কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য ডেইলি নিউ নেশন-এর প্রতিবেদনেও মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে একই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্দেশ্যেও লটারির মাধ্যমে বদলি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এর আগে ৩ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে লটারির মাধ্যমে পদায়ন হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবরের লটারিতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ঢাকার নির্ধারিত পদগুলোতে বদলি করা হবে। অর্থাৎ এটি শুধু ঢাকায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের নিজেদের মধ্যে বদলি নয়; দেশের অন্য জেলার কর্মরত কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ার আওতায় থাকছেন।

আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি-সংক্রান্ত অফিস আদেশ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

আগামী ৬ অক্টোবরের লটারি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর পদায়নে নতুন এই পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পত্তি নিবন্ধন সেবায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।