চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত এই গ্রিনফিল্ড কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণপর্ব শুরু হয়।
প্রকল্পটিতে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনালটি নির্মাণ ও পরিচালনা করবে। সরকারি বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা Invest Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম বড় ইউরোপীয় ইকুইটি বিনিয়োগ।
পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর জায়গায় গড়ে উঠবে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। প্রকল্পের আওতায় মূল টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ট্রাক পার্কিং ও প্রি গেট সুবিধা থাকবে।
টার্মিনালটি চালু হলে বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় কনটেইনার জাহাজ সরাসরি হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা তৈরি হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতার জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রকল্পে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, সাতটি শিপ টু শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্রাক্টর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টার্মিনালের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এর আগে জানিয়েছিলেন, টার্মিনালটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ক্রেনগুলো দূর থেকে পরিচালনার প্রযুক্তিও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরিচালন দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে।
৩০ আগস্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার পথে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি সরকারের ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা, জাহাজের অপেক্ষার সময় এবং পণ্য পরিবহনের দক্ষতা নিয়ে গুরুত্বও বাড়ছে। লালদিয়া টার্মিনালকে সেই সক্ষমতা বৃদ্ধির বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি প্রকল্প তথ্য অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনাল ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। চালু হলে বাড়তি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং সংযোগ, লজিস্টিকস কার্যক্রম এবং আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে আরও দক্ষতা আসার প্রত্যাশা রয়েছে।
এপিএম টার্মিনালস ৩০ বছরের অপারেটিং কনসেশনের আওতায় টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণ শুরুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোল বাংলাদেশ। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে টার্মিনালটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আনা এবং এর মাধ্যমে দেশের আমদানি রপ্তানি ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।



