জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কোনো একক দেশের পক্ষে একা সফল হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নির্গমন কমানো, পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে আসছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বৈঠকে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বাংলাদেশের উদ্যোগগুলোর বিষয়ও তুলে ধরা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জলবায়ু অর্থায়ন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়ন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক বৈঠকগুলোতে নির্গমন কমানো, অর্থায়ন এবং অভিযোজন কৌশল নিয়ে দেশগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ন্যায়সংগত ও কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।