শরতের আকাশে সাদা মেঘ আর পূজার আগমনী বার্তার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সারা দেশে পালিত হচ্ছে মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার প্রতীক। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ভোর থেকে চণ্ডীপাঠ, শঙ্খধ্বনি, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, তর্পণ এবং বিশেষ পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের সূচনা হয়। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার আবির্ভাবকে স্বাগত জানান ভক্তরা। এদিন পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করারও বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ, ভক্তিমূলক সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

পরে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণে তিলতর্পণ এবং সকাল ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরেও মহালয়া উপলক্ষে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গার আগমনী বন্দনায় অংশ নেন।

মহালয়া উপলক্ষে ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পাঠ। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার শক্তি, মহিষাসুর বধ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের কাহিনি স্মরণ করা হয়।

এ বছর বাংলাদেশে প্রচলিত পূজার সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। তবে পঞ্জিকাভেদে ষষ্ঠীসহ কয়েকটি পূজার তিথি ও আচার পালনের সময়ে পার্থক্য রয়েছে।

দেশজুড়ে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজনের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ চলছে।

মহালয়া কেবল দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি পূর্বপুরুষদের স্মরণ, আত্মিক শুদ্ধি এবং শুভ শক্তির আরাধনার বিশেষ দিন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও দিনটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।