আন্তর্জাতিক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় নতুন সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত World Robot Olympiad Asia-Pacific Open Championship 2026-এর Future Engineers বিভাগে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশের Team Blueprint।
প্রতিযোগিতাটি ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫টি দেশের ১৪৯টি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে চারটি দল, যারা তিনটি ভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
ব্রোঞ্জজয়ী Team Blueprint-এর সদস্যরা হলেন সাম্মান রাহিন, সৈয়দ সুবেহ সাদিক শলোক এবং আজমাইন শেখ রুবায়েদ। তিনজনই দেশের তিনটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সাম্মান রাহিন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, শলোক মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং রুবায়েদ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
দলের প্রতিযোগিতামূলক প্রকল্পটির নাম ‘Talos’। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক গাড়ি, যা নিজস্ব ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করতে পারে এবং ক্লাউড সংযোগ ছাড়াই ট্র্যাকে চলতে সক্ষম।
দলটি শুরুতে রং শনাক্তকরণভিত্তিক একটি ভিশন সিস্টেম ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আলোর পরিবর্তনে সেই ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ না করায় পরে তারা YOLOv8 ভিত্তিক কম্পিউটার ভিশন মডেল ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থা নতুন করে তৈরি করে। এর ফলে গাড়িটি ক্যামেরায় পাওয়া দৃশ্য বিশ্লেষণ করে বাধা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
প্রতিযোগিতার Future Engineers বিভাগে রোবোটিক গাড়িকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই অচেনা ট্র্যাকে চলতে হয়। Open Round-এ Team Blueprint সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করে। পরে Obstacle Round-এ লাল ও সবুজ পিলার এড়িয়ে নির্ধারিত দিক দিয়ে চলা এবং নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্ক করার পরীক্ষা দিতে হয়।
দলের সদস্যদের দায়িত্বও ছিল আলাদা। সাম্মান রাহিন সার্কিট ও মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করেন। শলোক সেন্সর ফিউশন, সিস্টেম আর্কিটেকচার ও সফটওয়্যার তৈরি করেন। আর রুবায়েদ গাড়িটির চ্যাসিস নকশা ও নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রতিযোগিতার আগে দলটিকে বেশ কিছু সমস্যার মধ্যেও পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা, সীমিত বাজেট এবং ভিসা পেতে দেরির কারণে নির্ধারিত প্রস্তুতির বড় অংশ শেষ মুহূর্তে সম্পন্ন করতে হয় তাদের। পরে শলোকের বাসায় পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ট্র্যাক তৈরি করে দ্রুত পরীক্ষা চালানো হয়। হায়দরাবাদ পৌঁছানোর পরও হোটেলের পাশে আরেকটি অনুশীলন ক্ষেত্র তৈরি করে পরীক্ষা চালিয়ে যায় দলটি।
বাংলাদেশের আরেক দল Team Odyssey X Future Innovators Senior বিভাগে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে। এ দলে ছিলেন আবিদা ওয়াদুদ ও সাদমান আল হক। এছাড়া Team Nebucoders একই বিভাগে এবং Team Robomania RoboMission Senior বিভাগে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেয়।
এবারের WRO Asia-Pacific Open Championship-এর প্রতিপাদ্য ছিল “Robots Meet Culture”। আন্তর্জাতিক আয়োজনটিতে রোবোটিক্স, প্রকৌশল, প্রোগ্রামিং ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে তরুণরা অংশ নেয়।
Team Blueprint-এর সামনে এবার আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ। WRO-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, World Robot Olympiad International Final 2026 আগামী ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিশ্বের শতাধিক দেশের দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এশিয়া প্যাসিফিক পর্যায়ে ব্রোঞ্জ জয়ের পর Team Blueprint এখন সেই আন্তর্জাতিক ফাইনালে আরও ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদের তৈরি AI-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই সাফল্য একই সঙ্গে দেশের রোবটিক্স ও STEM শিক্ষার সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে।
