বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর শীর্ষ ৫০ উদ্ভাবনের তালিকায় স্থান পেয়েছে ড্যাফোডিল এআইয়ের ছয়টি প্রকল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, রোবোটিক্স ও অটোমেশন ব্যবহার করে তৈরি এসব উদ্যোগে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, সড়ক অবকাঠামো এবং স্মার্ট অটোমেশনের মতো বাস্তব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

ড্যাফোডিল এআই মূলত ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমন্বিত উদ্ভাবনী উদ্যোগ। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হওয়া তিন দিনের বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে তাদের এসব প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মেলার বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।

শীর্ষ ৫০-এ স্থান পাওয়া প্রথম প্রকল্প Dual-Mode FR Vehicle। এটি দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের যান। জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে বলে ড্যাফোডিল এআই জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে HOMEPITAL NEXUS। প্রকল্পটিকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে The Arbor Voice for Mothers, যার লক্ষ্য মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা দেওয়া।

তালিকায় রয়েছে PikoBot, একটি ইন্টারেক্টিভ ডেস্ক কম্প্যানিয়ন রোবট। ছোট আকারের এই রোবট প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে রোবটের ব্যবহারিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

সড়ক অবকাঠামোর সমস্যা শনাক্ত করতে তৈরি করা হয়েছে Pav Analytics। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করার জন্য প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। সড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিতে এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।

ষষ্ঠ প্রকল্প IoT Smart Automation। ইন্টারনেট অব থিংস বা IoT ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় ও সহজ করার ধারণা নিয়ে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে ড্যাফোডিলের নির্বাচিত ছয় প্রকল্পের মধ্যে স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি রোবোটিক্স এবং অটোমেশনও জায়গা পেয়েছে।

মেলায় শুধু এই ছয়টি প্রকল্পই প্রদর্শন করছে না ড্যাফোডিল এআই। শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় AI ব্যবহারের জন্য AI Professor, Student360, Alumni360, Perfect HR, LeadershipOS এবং RegistrarOS-এর মতো আরও কয়েকটি প্ল্যাটফর্মও তুলে ধরা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবসম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিভিন্ন দিক এসব উদ্যোগে দেখানো হচ্ছে।

ড্যাফোডিল এআই জানিয়েছে, তাদের আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি AI, রোবোটিক্স, অটোমেশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নাধীন রয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে উদ্যোগটির।

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেছেন, দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে তরুণদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ব্যবহারযোগ্য সমাধান এবং বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি ড্যাফোডিলের স্টল ঘুরে সেখানে প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পগুলো সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় ড্যাফোডিলের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর মূল প্রতিপাদ্য “Innovate to Market”। আয়োজকদের লক্ষ্য গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শুধু প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। মেলায় AI, অটোমেশন ও রোবোটিক্স, স্বাস্থ্য ও জীবনবিজ্ঞান, স্মার্ট সিটি, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ মোট ১৪টি খাতের উদ্ভাবনকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।

ড্যাফোডিল এআইয়ের ছয় প্রকল্পের শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পাওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহারের একটি চিত্রও সামনে এসেছে। এখন এসব প্রকল্প প্রদর্শনী ও পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে বাস্তব ব্যবহার এবং বাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।