Startup Bangladesh-এর তহবিল ১,০০০ কোটিতে নেওয়ার উদ্যোগ—লক্ষ্য নতুন উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ

ভালো idea আছে, প্রযুক্তিও আছে—কিন্তু বিনিয়োগ না পাওয়ায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগ শুরুর আগেই থেমে যায়। বাংলাদেশের startup ecosystem-এর এই পুরোনো অর্থায়ন সংকট কাটাতে সরকারি venture capital-এর পরিসর বড় করার পরিকল্পনা সামনে এনেছে সরকার।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সরকারি উদ্যোগ Startup Bangladesh-এর তহবিল পর্যায়ক্রমে ১,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু সরাসরি অর্থায়ন বাড়ানো নয়; একটি শক্তিশালী স্থানীয় venture capital market তৈরি করে private ও international investors-কেও বাংলাদেশের startup খাতে টেনে আনা।

গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, startup খাতে নতুন financing window তৈরির জন্য একটি সমন্বিত তহবিল কাঠামো নিয়ে কাজ করছে Startup Bangladesh। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত ৪০০ কোটি টাকার Fund of Funds এবং ৩০০ কোটি টাকার Co-Investment Fund। পরবর্তী ধাপে পুরো funding capacity পর্যায়ক্রমে এক হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এই পরিকল্পনায় Fund of Funds বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার নিজে প্রতিটি startup বেছে নিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ করার বদলে venture capital fund ও অন্যান্য বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে private capital-কে বাজারে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে co-investment model-এ সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীও একই startup-এ অর্থ দিতে পারবেন।

সরকারের প্রত্যাশা, এতে শুধু রাষ্ট্রীয় টাকার ওপর startup-গুলোর নির্ভরতা কমবে না; বরং দেশীয় venture capital industry-ও ধীরে ধীরে বড় হবে।

Startup Bangladesh-এর বর্তমান বিনিয়োগের চিত্রও সংসদে তুলে ধরেছেন ফকির মাহবুব আনাম। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের জন্য প্রথমে ৫৫টি startup অনুমোদন পেয়েছিল। তবে due diligence এবং বিনিয়োগের শর্ত নিয়ে অসঙ্গতি বা মতপার্থক্যের কারণে পরবর্তী সময়ে ১৯টি বাদ পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩৬টি technology-driven startup-এ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এই portfolio-তে ride-sharing, edtech, fintech, logistics, healthtech ও e-commerceসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। Chaldal, 10 Minute School, ShareTrip, iFarmer, Pathao, Shikho, Truck Lagbe এবং Pickaboo-র মতো প্রতিষ্ঠানও Startup Bangladesh-এর বিনিয়োগ তালিকায় রয়েছে।

সরকারি হিসাবে এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে portfolio startups-এ ৭ হাজারের বেশি সরাসরি চাকরি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর revenue ও sales গড়ে পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে এবং তারা সম্মিলিতভাবে ১৮০ কোটি টাকার বেশি কর দিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ portfolio startup ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের startup ecosystem-এর বড় চ্যালেঞ্জ এখনও capital availability। নতুন কোম্পানির একেবারে শুরুর পর্যায়ে seed funding কিছুটা পাওয়া গেলেও business scale-up করার সময় বড় অঙ্কের দেশীয় institutional investment পাওয়া তুলনামূলক কঠিন। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক প্রতিষ্ঠান foreign funding-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

এ কারণেই সরকার venture capital market শক্তিশালী করার বিষয়টিকে শুধু startup policy হিসেবে নয়, technology-driven employment ও investment policy হিসেবেও দেখছে। ফকির মাহবুব আনাম এর আগে আগামী পাঁচ বছরে ICT খাতে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য এবং বাংলাদেশকে technology-producing ও innovation-driven অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।

তবে এক হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঘোষণা নিজেই সফল startup ecosystem নিশ্চিত করবে না। অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হচ্ছে, startup নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে, private fund managers কতটা যুক্ত হচ্ছেন এবং সফল কোম্পানির investment exit থেকে অর্থ আবার নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরছে কি না—এসবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হতে পারে এখানেই—সরকার একা startup-এ অর্থ দেওয়ার বদলে এমন একটি বাজার তৈরি করবে, যেখানে সরকারি পুঁজির সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক private capital-ও নতুন উদ্যোক্তাদের পেছনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।

আর সেই ecosystem তৈরি করা গেলে তরুণদের জন্য technology-based entrepreneurship শুধু ঝুঁকিপূর্ণ স্বপ্ন নয়, বড় কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের একটি বাস্তব পথ হয়ে উঠতে পারে।