“অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের পেছনে রেখে দেশ এগোতে পারে না”—তারেক রহমান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে নারীদের আরও শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বক্তব্য, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী; এই বড় জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই দেশের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীতে Family Card কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, নারীদের শুধু সহায়তার আওতায় আনলেই হবে না, তাদের ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগও তৈরি করতে হবে।

তার বক্তব্যের কেন্দ্রেই ছিল Family Card।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে কার্ডটি মূলত পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০ জেলা ও তিন সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে Family Card দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তারেক রহমান এর আগেও Family Card-কে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের আগে বিএনপির পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে এই কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক বা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে এবং কার্ডটি প্রধানত নারী সদস্যের নামে দেওয়া হবে।

ক্ষমতায় আসার পর সরকার সেই কর্মসূচির pilot phase শুরু করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে সব পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনা প্রশাসনিকভাবে সম্ভব নয়; তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানো হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে তার বক্তব্য শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেও সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে তিনি একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা কাজে না লাগালে জাতীয় উন্নয়নও পূর্ণতা পাবে না।

সরকার Family Card-কে পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। জাতীয় সংসদেও তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনে ব্যক্তির পরিবর্তে পরিবারকে একটি মৌলিক একক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এই কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে কত দ্রুত এর আওতা বাড়ানো যায়, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ থাকে এবং দেওয়া সহায়তা নারীদের বাস্তব অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটা বাড়ায়—তার ওপর।

তারেক রহমানের বক্তব্যের রাজনৈতিক বার্তাটিও তাই স্পষ্ট—নারীকে শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।