US–Iran যুদ্ধবিরতির সময় শেষ—‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক অবস্থানে’ যাওয়ার হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে স্থায়ী সমঝোতার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। এর মধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক অবস্থান আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
১৭ জুন স্বাক্ষরিত Memorandum of Understanding বা MoU-তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সময় দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান সামরিক সংঘাতসহ বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য ছিল। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।
তবে কাগজে ৬০ দিনের সময়সীমা থাকলেও যুদ্ধবিরতি পুরো সময় টেকেনি। সমঝোতার পরপরই Strait of Hormuz-এর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়।
তেহরানের দাবি, জুনের সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় তাদের বিশেষ অধিকার রয়েছে। Washington সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর ইরান কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করলে সংঘর্ষ আবারও বাড়তে থাকে। Donald Trump ৭ জুলাইই বলেছিলেন, সমঝোতাটি কার্যত ‘শেষ’।
এবার পরিস্থিতি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা Reuters-কে বলেছেন, স্থায়ী শান্তির আলোচনা এগোতে না পারায় ইরান একটি ‘fully offensive’ military posture বা পূর্ণ আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরমুজ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োজন হলে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি জুনের সমঝোতার শর্ত পূরণ না করে এবং কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হয়, তাহলে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান ‘সময়মতো ও সুনির্দিষ্ট’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে Washington আপাতত পুরোনো ceasefire framework-এর মেয়াদ বাড়াতে চাইছে না। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট Trump জানান, যুক্তরাষ্ট্র জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতা extend করার চেষ্টা করছে না।
তারপরও কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Trump প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের শক্তিশালী Islamic Revolutionary Guard Corps বা IRGC-এর সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে Strait of Hormuz। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও LNG এই সরু নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে সেখানে নতুন সামরিক সংঘর্ষ হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত থাকবে না—বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
সেই উদ্বেগ ইতোমধ্যেই বাজারে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেনে Brent crude oil-এর দাম আবার প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বাড়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যার বড় অংশ ইরান ও লেবাননে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ফলে ৬০ দিনের সমঝোতার সময় শেষ হওয়াটা শুধু একটি deadline পার হওয়া নয়। স্থায়ী চুক্তি না হওয়া, হরমুজ নিয়ে বিরোধ এবং ইরানের নতুন সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবার এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ছোট একটি সংঘর্ষও দ্রুত বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এখন নজর থাকবে—শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক যোগাযোগ কোনো নতুন সমঝোতার পথ খুলতে পারে, নাকি ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক অবস্থান’-এর হুঁশিয়ারিই পরবর্তী US–Iran অধ্যায়ের বাস্তব চিত্র হয়ে ওঠে।



