তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমানবন্দরের প্রবেশ এলাকা, যাত্রীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ক্যানোপি এলাকায় অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি, গাড়ি ও সিএনজি সংশ্লিষ্ট দালালদের কার্যক্রম এবং প্রবেশপথের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে (K9) অনুসন্ধান কার্যক্রম, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন সক্ষমতা বৃদ্ধি।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা ও সেবার পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও।

বিমান চলাচল খাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সামনে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়, একটি বিমানবন্দরের কার্যকর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগে শাহজালালের পুরো নিরাপত্তা কাঠামো কতটা প্রস্তুত—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।