আগামী পাঁচ বছরে এক কোটির বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য জানিয়েছে সরকারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফ একাই এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিতুমীর জানান, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন নিজেদের উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে কী পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, তার লক্ষ্য তুলে ধরেছে। এর মধ্যে একটি ফাউন্ডেশন একাই এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা জানিয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা যুক্ত হওয়ায় মোট লক্ষ্য এক কোটির বেশি হতে পারে।
পরে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি কমানো এবং অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতেও কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই পরিকল্পনার সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। এরই মধ্যে পিকেএসএফ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল নিয়ে চুক্তি হয়েছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়াতে পিকেএসএফের সঙ্গে ব্যাংকগুলোরও বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ম্যাক্রো ফিসক্যাল ডাটাবেসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরে একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পিকেএসএফের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮০০ কোটি টাকার অর্থায়ন সুবিধার চুক্তিও হয়েছে।
ফাউন্ডেশনগুলোর কর্মপরিকল্পনায় শুধু সরাসরি চাকরি নয়, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বকর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্থানীয় সম্পদ, দক্ষতা ও ঐতিহ্য কাজে লাগিয়ে এক গ্রাম এক পণ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকেও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে ফাউন্ডেশনগুলো ২ গিগাওয়াট উৎপাদনে অবদান রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতেও ফাউন্ডেশনগুলোর কার্যক্রম সমন্বিত করার কথা বলা হয়েছে। এসব কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান ক্লাস্টারের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
তবে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যটি কীভাবে এবং কোন সময়সূচিতে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগে এই লক্ষ্য উপস্থাপন করেছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে পিকেএসএফের ৫ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচিটি তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট। এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বৃহত্তর পাঁচ বছরের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি বাস্তবায়নযোগ্য অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
সরকারি ফাউন্ডেশনগুলোর নতুন কর্মপরিকল্পনায় তাই কর্মসংস্থানকে শুধু চাকরি সৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, গ্রামীণ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, ঘোষিত লক্ষ্যগুলো কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।



