নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানিতে ছয় মাসের জন্য কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সুবিধার মাধ্যমে দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন solar panel, inverter, battery এবং সংশ্লিষ্ট structure আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক, ভ্যাট, regulatory duty ও অন্যান্য করের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বড় একটি ব্যয় আসে যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনের ক্ষেত্রে। কর ও শুল্ক কমলে প্রকল্প বাস্তবায়ন খরচ কিছুটা কমবে এবং নতুন উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।

বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় জ্বালানি উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পকারখানায় সৌর ব্যবস্থা এবং ছোট আকারের প্রকল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে কর সুবিধা দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস হিসেবে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নে শুধু কর সুবিধাই নয়, বিদ্যুৎ সংযোগ, নীতিগত স্থিতিশীলতা, অর্থায়ন সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সহজ প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকারের নতুন কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের খরচ কমবে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এই উদ্যোগ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।