সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। তবে এ প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যান আধুনিকায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে আগ্রহী। কেউ এই পরিবর্তনকে সংস্কার হিসেবে অভিহিত করলে তাতে সরকারের আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দল হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ আলোচনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই সনদ প্রণীত হয়েছে। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা বহন করে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে একটি নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এর কিছু বিষয় সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কিছু বিষয় আইন ও বিধিবিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার একটি পর্যায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এবং সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাগুলোও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ১৩ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায়। এ জন্য বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওই সময় তিনি আরও বলেছিলেন, বিরোধী দল চাইলে লিখিত মতামত দিতে পারবে এবং সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপিত হলেও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সোমবারের বক্তব্যে আবারও বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাঁর এই মন্তব্য সরকারের অবস্থান ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য। সংশোধন প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় ও সাংবিধানিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।




