দেশে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সরকারি উদ্যোগে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, পরিবহনচালক, শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্প’-এর মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শব্দদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ সৃষ্টি থেকে মানুষকে বিরত রাখাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৭২ হাজার ২০০ জন পরিবহনচালক ও শ্রমিক রয়েছেন।

এ ছাড়া ৮ হাজার ১৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ হাজার ৯২০ জন কারখানা ও নির্মাণশ্রমিক এবং ১ হাজার ৮০০ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

অন্যান্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ৫ হাজার ৫৮০ জন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি।

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছেন।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গণমাধ্যম, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

শব্দদূষণবিষয়ক বার্তা প্রচারে দেশজুড়ে ১২৮টি বিলবোর্ড ও ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ লাখ লিফলেট, ৭ লাখ সচেতনতামূলক উপকরণ এবং ১ হাজার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ছাপিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইন প্রয়োগেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলার মাধ্যমে ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

একই সময়ে ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য উচ্চমাত্রার শব্দ বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় শব্দের মাত্রা কতটা কমেছে, সে বিষয়ে প্রকল্পের প্রকাশিত তথ্যে নির্দিষ্ট তুলনামূলক ফলাফল পাওয়া যায়নি।