ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বায়ুমান সূচক (AQI) ছিল ১৫৭। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ওই সময়ের বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে ছিল ঢাকা। সূচকের এই মান অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর।
তবে এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট সময়ের পরিমাপ। এটি দিয়ে পুরো দিনের বায়ুমানের চিত্র বোঝা যায় না। আবহাওয়া, বাতাসের গতি, আর্দ্রতা ও দূষণের উৎসের পরিবর্তনের সঙ্গে বায়ুমান সূচকও ওঠানামা করে।
দূষণের তালিকায় এগিয়ে ছিল যেসব শহর
আইকিউএয়ারের ২২ অক্টোবর সকালের তালিকায় পাকিস্তানের লাহোর ছিল প্রথম স্থানে। শহরটির বায়ুমান সূচক ছিল ২৯৪। দ্বিতীয় অবস্থানে ভারতের দিল্লি, সূচক ২৩৫। তৃতীয় স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার সূচক ছিল ১৭৪। ওই সময় ঢাকার সূচক ছিল ১৫৭।
বায়ুমান সূচক বা AQI ব্যবহার করে বাতাসে দূষণের মাত্রা এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়। সাধারণত সূচক যত বেশি হয়, দূষণের ঝুঁকিও তত বাড়ে।
AQI ১৫৭ হলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কী
প্রচলিত মার্কিন AQI মানদণ্ড অনুযায়ী, ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে সূচক থাকলে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অবস্থায় শুধু সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী নয়, সাধারণ মানুষেরও স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হাঁপানি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
বায়ুদূষণের অন্যতম ক্ষতিকর উপাদান হলো পিএম২.৫। এগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম বস্তুকণা, যা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঢাকার বাতাস দূষিত হওয়ার কারণ
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটার নির্গমন এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার দূষণ ভূমিকা রাখে। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে গেলে এবং বাতাসে ধুলাবালি বেশি সময় ধরে জমে থাকলে দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
রাজধানীর জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের পাশাপাশি অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতাও বায়ুমানের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে দূষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোন উৎস কতটা দায়ী, তা জানতে পৃথক পরিমাপ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
দূষিত বাতাস থেকে সুরক্ষায় করণীয়
বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে বাইরে অপ্রয়োজনীয় সময় কাটানো কমানো এবং ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের বাইরে থাকার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বাইরে যেতে হলে ভালো মানের, মুখে সঠিকভাবে বসে এমন কণা প্রতিরোধী মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের ভেতরে ধুলাবালি কম রাখা এবং সম্ভব হলে উপযুক্ত বায়ু পরিশোধক ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।
ঢাকার বায়ুমান সূচক ১৫৭-তে পৌঁছানোর তথ্য রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতির একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ কমাতে নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজের ধুলা কমানো এবং পরিবেশবিধি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।

