সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন এই দর ঘোষণা করে বিইআরসি। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। কমিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার নতুন দর জানান, আর বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

নতুন দরে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ১৩২ টাকা ১২ পয়সা, যা আগস্টে ছিল ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ১ টাকা ৩ পয়সা।

একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। আগস্টে লিটারপ্রতি ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা থাকা অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা—অর্থাৎ লিটারে কমেছে ৫৮ পয়সা।

এলপিজির অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারণ করেছে কমিশন। ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ৭২৭ টাকা, ১২.৫ কেজি ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৯৮২ টাকা এবং ১৬ কেজি ২ হাজার ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ কেজির দাম ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৬৪২ টাকা এবং ২৫ কেজি ৩ হাজার ৩০৩ টাকা করা হয়েছে।

৩০ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজি ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব দাম ভ্যাটসহ খুচরা পর্যায়ের জন্য প্রযোজ্য।

বিইআরসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের দাম নির্ধারণে সৌদি আরামকোর এলপিজির চুক্তিমূল্য বা সৌদি সিপি বিবেচনা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের দাম প্রতি টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৬৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে হিসাব করে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার প্রতি টন।

স্থানীয় বাজারে দাম নির্ধারণের সময় আন্তর্জাতিক দামের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং ডলারের বিনিময় হারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের হিসাবে গড় বিনিময় হার ধরা হয়েছে প্রতি ডলারে ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।

তবে নতুন দাম কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এখনো ৫৭ টাকা বেশি। জুলাইয়ে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা, যা আগস্টে এক দফায় ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায় ওঠে।

এর আগে এপ্রিল মাসে দুই দফায় এলপিজির দাম বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরে জুন ও জুলাইয়ে দাম কমলেও আগস্টে আবার বেড়েছিল। সেপ্টেম্বরের নতুন সিদ্ধান্তে সেই দামের ওপর থেকে সামান্য চাপ কমেছে।

সরকারি সরবরাহের এলপিজির দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য আগের মতো ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাই থাকছে।

বিইআরসি আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রিসহ কোনো পর্যায়েই নির্ধারিত মূল্যের বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বরের নতুন দর অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাকে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দিতে হবে। একই সঙ্গে অটোগ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য লিটারপ্রতি নতুন দাম কার্যকর হয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।