সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ক্ষে/পণা/স্ত্র হা/ম/লার পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে বিমানবন্দরটিতে একাধিকবার হা/ম/লার ঘটনা ঘটে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নতুন করে হা/ম/লার পর যাত্রীদের বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল এবং অন্য গন্তব্যে পাঠানো হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হা/ম/লায় অন্তত ১২ জন নি/হ/ত এবং তিন শতাধিক মানুষ আ/হ/ত হন। পরদিন রোববার আরও একটি হা/ম/লায় একজনের মৃ/ত্যু ও ১১ জনের আ/হ/ত হওয়ার খবর জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বিমানবন্দরে একাধিক হা/ম/লার দায় স্বীকার করেছে। তবে বিভিন্ন হা/ম/লার বিষয়ে তাদের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

হা/ম/লার প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে। বিমান চলাচলবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৌদি আরবের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরের পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপরও পড়েছে। হা/ম/লার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রিয়াদগামী দুটি ফ্লাইট স্থগিত করে বলে জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহযাত্রী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে ভ্রমণকারীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষ করে রিয়াদগামী কিংবা রিয়াদ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকারীদের টিকিটের সময়সূচি, ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা এবং পুনর্নির্ধারিত যাত্রার তথ্য যাচাই করা জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।