রেড সি ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল খাতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে shipping insurance বা জাহাজের বীমা খরচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হলো রেড সি। এ পথ ব্যবহার করে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। বিশেষ করে সুয়েজ খাল হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও জ্বালানি ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে। পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগা এবং বীমা ব্যয় বাড়ার কারণে আমদানি খরচও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্য, কাঁচামাল ও শিল্প উপকরণের জন্য আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রেড সি অঞ্চলের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের আমদানি ব্যয়েও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে আমদানি করা পণ্যের মোট খরচ বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি এবং ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব নজরে রাখতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া, বীমা খরচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন আমদানিকারকরা। তবে পরিস্থিতির স্থায়ী প্রভাব নির্ভর করবে রেড সি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ রেড সি দিয়ে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব এখনো নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা না গেলেও আমদানি খাতের ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় কমে না এলে ভবিষ্যতে পণ্যের দামে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
