৬. Full News
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তি, তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কেউ, তদন্তে যার বিরুদ্ধেই সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
যেভাবে সামনে এল প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে তাঁর কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে।
খবর পাওয়ার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখতে বলেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরিপ্রার্থীরা এসেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন আমিনুল হক।
তদন্তে এনএসআই, ডিজিএফআই ও সিআইডি
প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) ফরেনসিক দল গঠন করে ঘটনার দিনের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া, নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ভূমিকা এবং প্রশ্নপত্র ছাপানো বা ফটোকপি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এর আগে কোনো প্রশ্ন ফাঁসের চক্র এ ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটিকে প্রথমে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কমিটি অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। পরে আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
কাউকে আগেভাগে অভিযুক্ত করতে চান না প্রতিমন্ত্রী
আমিনুল হক বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না। প্রশ্নপত্র তৈরির সময়, নিয়োগ কমিটির ভেতরে অথবা ছাপানো ও ফটোকপির কোনো পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিয়োগ কমিটি দায় এড়াতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে যে-ই জড়িত থাকার প্রমাণের মুখে পড়বেন, সরকারি কর্মকর্তা বা বাইরের ব্যক্তি যেই হোন, তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানাননি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
শুক্রবার আবার পরীক্ষা, পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রস্তুতি
স্থগিত হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় নেওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু পরিবেশে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তদারকির কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই নতুন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা, নিরাপদ পরিবহন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তদন্তের ফলের অপেক্ষা
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এনএসআই, ডিজিএফআই ও সিআইডির কার্যক্রমের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও পরবর্তী সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের উৎস সম্পর্কে কী তথ্য উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





