রাজধানীর কদমতলীর পোস্তগোলায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই অটোরিকশাচালক নি/হত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পোস্তগোলা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নি/হতরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর পোদ্দার ও মো. জাকির হোসেন। এ ঘটনায় আ/হত আরও একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় জাহাঙ্গীর ও জাকির রাস্তার পাশে তাঁদের যান নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আ/হত হন। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা যানবাহনকে চাপা দিয়ে ফুটপাতে উঠে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আ/হত তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃ/ত্যু হয়।

নি/হত জাহাঙ্গীর পোদ্দারের সহকর্মী হৃদয় জানান, দুর্ঘটনার পর আ/হত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে জাহাঙ্গীরকে মৃ/ত ঘোষণা করেন। কিছু সময় পর জাকিরও মা/রা যান। আ/হত অপর ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নি/হত জাকির হোসেনের বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম জিন্নাত আলী। তিনি রাজধানীর কদমতলীর মোহাম্মদবাগের পাকার মাথা এলাকায় থাকতেন। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর পোদ্দারের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম শাহআলম পোদ্দার। তিনি রাজধানীর নামা শ্যামপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পুলিশের বরাতে প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। অন্যদিকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও জাগো নিউজের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী ও নি/হত ব্যক্তির স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দুটি ট্রাকের দ্রুতগতিতে চলা এবং পাশাপাশি সংঘর্ষের কথা উঠে এসেছে। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পা/লিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রে/প্তারের চেষ্টা চলছে। নি/হত দুজনের ম/রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমানও দুর্ঘটনায় দুজনের মৃ/ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আ/হত অপর ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাতের শেষ ভাগে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা দুই চালকের এমন মৃ/ত্যু রাজধানীর সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দ্রুতগতির যান চলাচল, চালকের সতর্কতা এবং রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।