জীবিকার তাগিদে পাইপ মিস্ত্রি, স্বপ্নে সুপারহিরো

সিনেমার পর্দার সুপারহিরো কৃষের মতো হতে চান সিরাজগঞ্জের মোহাম্মদ আল মামুন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে পাইপ ফিটিংসের কাজে। তবে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসরে কালো পোশাক পরে নানা কসরত, ডিগবাজি ও শূন্যে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন ‘বাংলার কৃষ’ নামে।

মামুনের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে লোহা ও স্টিলের কাজ করলেও সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে স্টান্টের বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করছেন।

বোনের পুরোনো বোরকা দিয়ে তৈরি পোশাক

মামুনের স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা ছিল অর্থের অভাব। বাজার থেকে সুপারহিরোর পোশাক কেনা কিংবা উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহের সামর্থ্য না থাকায় বিকল্প পথ খুঁজতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত বড় বোনের পুরোনো একটি বোরকা নিজের মতো করে পরিবর্তন করে তৈরি করেন কৃষের আদলে পোশাক।

সেই পোশাক পরেই বিভিন্ন জায়গায় স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন মামুন। কখনো ডিগবাজি, কখনো লাফিয়ে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার কৌশল—নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। তাঁর এমন কর্মকাণ্ড দেখতে আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন, পরে সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

আট থেকে দশ বছরের চেষ্টায় পরিচিতি

মামুনের এই পথচলা শুরু হয়েছিল নিজের কসরতের ভিডিও তৈরি করার মধ্য দিয়ে। প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করলেও তেমন সাড়া পাননি। পরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে বলিউডের সুপারহিরো কৃষের আদলে নিজেকে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিজের আগ্রহ থেকে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। সেই চেষ্টার ফলেই ধীরে ধীরে তাঁর পরিচিতি বাড়তে শুরু করে।

চলচ্চিত্রে কাজ করার স্বপ্ন

মামুনের লক্ষ্য শুধু সুপারহিরোর পোশাক পরে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করতে চান তিনি। অভিনয় ও স্টান্টের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা বড় পরিসরে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেতে চান তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন।

দামি পোশাক, উন্নত সরঞ্জাম কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ ছাড়াই নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছেন সিরাজগঞ্জের এই তরুণ। জীবিকার দায়িত্ব সামলে স্বপ্নের পেছনে সময় দেওয়াই তাঁর প্রতিদিনের বাস্তবতা। এখন দেখার বিষয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘বাংলার কৃষ’ পরিচয় তাঁকে চলচ্চিত্রের পর্দায় পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করে।