যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে বাংলাদেশি শিল্পী সোমা সুরভী জান্নাতের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাদুঘরটির আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরে শিল্পী সোমা সুরভী জান্নাতের ‘Climate, Culture, Care’ শীর্ষক প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। প্রদর্শনীতে শিল্পীর কাজের গভীরতা, সৃজনশীলতা ও বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় জাদুঘরের কিউরেটরদের সঙ্গে এর বিভিন্ন সংগ্রহও পরিদর্শন করেন।

সোমা সুরভী জান্নাতের এই প্রদর্শনী যুক্তরাজ্যের কোনো জাদুঘরে বাংলাদেশে অবস্থানরত একজন শিল্পীর প্রথম একক প্রদর্শনী হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ১ নভেম্বর পর্যন্ত অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের গ্যালারি ৮-এ দেখার সুযোগ রয়েছে।

‘Climate, Culture, Care’ প্রদর্শনীতে সুন্দরবন, প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকট ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবনের সংযোগ শিল্পীর কাজের অন্যতম প্রধান বিষয়। তাঁর শিল্পকর্মে পরিবেশগত ঝুঁকি ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীটি দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ ইসলাম অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পকলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কিউরেটর ড. মালিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের শিল্পী ও সৃজনশীল খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়লে ভবিষ্যতে প্রদর্শনী, শিল্পীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আলোচনায় যেসব উদ্যোগের কথা এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী যোগাযোগ ও সিদ্ধান্তের ওপর।

অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে বাংলাদেশি শিল্পীর প্রদর্শনী এবং এ উপলক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফর দেশের সমকালীন শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।