মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌ/ন নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকাকালেও তিনি বিষয়গুলো কিছুটা লক্ষ্য করেছেন। দেশে ফেরার পরও এসব ঘটনা তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টিকে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করার চেষ্টা করবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সচেতন রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য, এ ধরনের ঘটনা থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ধর্মমন্ত্রী জুমার খুতবায় এ ধরনের বিষয় তুলে ধরতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ইমামরা খুতবায় শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনটি হারাম, কোনটি হালাল এবং কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, তা ব্যাখ্যা করলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়তে পারে। সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষকে বোঝানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণও প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ সুযোগ এবং তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।
ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।




