টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। পরে কাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির কাজ করছিলেন। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করতে দেখে স্থানীয়রা আপত্তি জানান এবং কাজ বন্ধ করে দেন। তবে স্থানীয়দের চলে যাওয়ার পর আবারও ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয় বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়েছে।
পরদিন সোমবার বিষয়টি জানতে পেরে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন এবং উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তিনি জানান, প্রকল্পটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর এর দায়ভার নেবে না। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়ে রাতে ফুটপাতের কাজ করেছে। যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস সড়কের মাইজখাড়া অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিম্নমানের কাজের অংশ অপসারণ করে নির্ধারিত নকশা ও প্রকৌশল নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এখন তদন্তের পর প্রকল্পের কোন অংশে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।