কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, নিহত ১

ঢাকার কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগ এলাকায় আমান প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে লাগা আগুন প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পান তাঁরা। খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে একে একে আরও ইউনিট যোগ দেয়।

শুরুতে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও পরে মোট আটটি ইউনিট যুক্ত হয়। দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ বিকেল পর্যন্ত চলে।

কারখানা থেকে মরদেহ উদ্ধার

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম সাকিব হাসান। পরদিন প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার–এর প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মানিক নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে এবং তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দাহ্য রাসায়নিক থেকে আগুন ছড়ানোর সন্দেহ

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানিয়েছেন, কারখানাটিতে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি করা হতো। খেলনা রং করার কাজে ব্যবহৃত থিনারসহ দাহ্য পদার্থ সেখানে রাখা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রং করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে এবং দাহ্য রাসায়নিকের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে

অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটির প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ও অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা যাচাই করার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এ জন্য কারখানার নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। শিল্পকারখানায় দাহ্য রাসায়নিক সংরক্ষণ, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা এবং জরুরি বহির্গমনপথ ঠিক রাখা আগুনের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। কেরানীগঞ্জের এই ঘটনার তদন্তে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা।

নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল এখনও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বিষয়ে পরবর্তী তথ্যও নজরে রাখা হচ্ছে।