কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল আগামী সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য চালু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর আগে নতুন টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন—দুই কার্যক্রমই পরিচালিত হবে। কক্সবাজার বিমানবন্দরে চলাচলকারী অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনগুলোও নতুন টার্মিনালে কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে উড়োজাহাজ ও টার্মিনাল ভবনের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে গলফ কার্ট ব্যবহার করা হবে। নতুন টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য এয়ারলাইনগুলোর পক্ষ থেকেও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নতুন টার্মিনাল চালুর পর পরবর্তী ধাপে অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমনকারী যাত্রীরাও নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবেন।
বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে এবং সমুদ্রের দিকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রসারিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে।
প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালটিতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ডিপার্চার লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক এবং ইমিগ্রেশন সুবিধা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের জন্য রয়েছে দুটি লাগেজ ডেলিভারি বেল্ট।
টার্মিনালে চারটি বহির্গমন ও ছয়টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, সিসিটিভি এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ডিপার্চার লাউঞ্জে একসঙ্গে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের ফলে বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে দুটি ওয়াইড-বডি ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ধারণ করতে সক্ষম প্রায় ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রন এবং দুটি ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে কোন কোন বিদেশি এয়ারলাইন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেবিচক আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে; তবে বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
