রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট ২০২৬ আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক পর্যটন বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটন ব্যবসার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মেলায় ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, পর্যটন বোর্ড ও অন্যান্য ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরছে। দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশের ট্যুর প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, ভিসা সেবা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন অফার রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। শুরুতে ১৩০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রদর্শক, ৫০ জন আন্তর্জাতিকভাবে আমন্ত্রিত ক্রেতা, ২০০ বাংলাদেশি ক্রেতা এবং শতাধিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা জানানো হয়েছিল। তিন দিনে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী আসতে পারেন বলেও আয়োজকেরা জানিয়েছিলেন।
তবে আয়োজনটির মূল লক্ষ্য শুধু পর্যটনসেবা প্রদর্শন নয়। দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি, নতুন অংশীদার খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসাগুলোর সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেলার অংশ হিসেবে বি-টু-বি বৈঠকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আয়োজকদের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আগাম নির্ধারিত বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
মেলার বিভিন্ন দিনে পর্যটন ও ভ্রমণ খাত নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আউটবাউন্ড পর্যটন, বিদেশ ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য, ভিসা প্রক্রিয়া, পর্যটনে ই-কমার্স এবং বাংলাদেশের ইনবাউন্ড পর্যটনের মতো বিষয় রয়েছে।
বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেছেন, দেশি-বিদেশি ক্রেতা, বিক্রেতা ও পর্যটনসেবা প্রদানকারীদের একই জায়গায় এনে বাস্তব ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনটির লক্ষ্য। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে দেশের পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিমান চলাচল খাতে নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ জানান, শুধু প্রদর্শনী নয়, কার্যকর ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও ফলপ্রসূ বি-টু-বি বৈঠকের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
আয়োজকেরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান পর্যটন ও ভ্রমণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন বাজারে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রবেশ এবং বাংলাদেশের পর্যটনসেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এই মেলায়।
আজ শেষ দিনে মেলায় পর্যটন ব্যবসার প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিন দিনের আয়োজন শেষে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন অংশীদারত্ব বা ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারল, সেটিই এখন পর্যটন খাতের অংশীজনদের আগ্রহের বিষয়।
