সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে ভারসাম্য আনতে নীতিগত সহায়তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে খামারিরা টিকে থাকার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তাদের জন্যও মুরগি ও ডিমের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।দেশের পোলট্রি খাত বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের চাপের মধ্যে রয়েছে। মুরগির খাদ্য বা ফিড তৈরির প্রধান উপকরণের দাম, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু খামার পর্যায়ে মুরগি ও ডিমের বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে না বাড়ায় সংকটে পড়েছেন অনেক খামারি।
পোলট্রি উৎপাদনে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি হলো ফিড। ভুট্টা, সয়াবিন মিলসহ বিভিন্ন উপকরণ ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এসব উপকরণের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, পরিবহন ব্যয় ও ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে স্থানীয় ফিডের দামে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়। ফলে খামারে একটি মুরগি উৎপাদন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম উৎপাদনে যে ব্যয় হচ্ছে, বাজারে বিক্রির সময় অনেক ক্ষেত্রে সেই খরচ অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
খামারিদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো বাজারদরের ওঠানামা। খুচরা বাজারে কোনো কোনো সময়ে মুরগি বা ডিমের দাম বাড়লেও উৎপাদক পর্যায়ে তার পুরো সুবিধা পৌঁছায় না। আবার বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে খামার পর্যায়ে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট খামারিরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হলে লোকসানের চাপ বাড়ে। এ অবস্থায় অনেক ছোট ও মাঝারি খামারি নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারাতে পারেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে মুরগির সংখ্যা কমিয়ে উৎপাদন সামঞ্জস্য করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
পোলট্রি শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, খাতটির স্থিতিশীলতার জন্য ফিডের কাঁচামালের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদক পর্যায়ে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকলে খামারিদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
পোলট্রি খাত দেশের মানুষের জন্য তুলনামূলক সহজলভ্য প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। মুরগির মাংস ও ডিমের পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে ফিড, হ্যাচারি, পরিবহন, ওষুধ ও শ্রমবাজারের বড় একটি অংশ যুক্ত। ফলে খামার পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব সরবরাহব্যবস্থা ও ভোক্তা বাজারেও পড়তে পারে।
