সরকারি কাজ বাস্তবায়নে অসহযোগিতা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে যেসব সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না, সেগুলোর অগ্রগতি ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কমিটি মনে করে, কোনো পর্যায়ে অসহযোগিতা বা দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ব্যাহত হলে তার কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে দায়ী কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম যাতে ব্যক্তিগত অনীহা বা প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলোর কাজের অগ্রগতি, বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছালে তার কারণ যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক জটিলতা, সমন্বয়ের ঘাটতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কাজের বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি জনসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে কমিটির সুপারিশে উঠে এসেছে।

তবে অসহযোগিতা বা অবহেলার অভিযোগে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এই সুপারিশ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পৃথক বিষয়।

এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো সুপারিশের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ধীরগতির প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।