বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ম্যাকবুক ও ক্যামেরা চু/রির শিকার হওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার একটি কাপড়ের দোকান থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় অবস্থানরত ওই পর্যটকের হাতে ল্যাপটপটি পৌঁছে দেয় পুলিশ। তবে তাঁর ডিএসএলআর ক্যামেরাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলস্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় এক ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির কাছে নিজের ব্যাগ রেখে যান পর্যটক। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ব্যাগসহ ওই ব্যক্তি উধাও হয়ে গেছেন। ব্যাগে একটি ম্যাকবুক, ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল।
ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ক্রিল ল্যান্ডার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।
প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীতে শনাক্ত হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট অনুসন্ধানে অংশ নেয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, অমল কুমার সাহা নামে এক ব্যক্তি ৮ অক্টোবর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি আসনের নিচে ব্যাগটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পান। পরে সেটি নিয়ে নওগাঁয় যান তিনি।
সংবাদমাধ্যমে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর খবর দেখে বিষয়টি তাঁর ছেলে অন্তর কুমার সাহাকে জানান। এরপর পুলিশের অনুসন্ধানে নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লথ স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবা ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ম্যাকবুক উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ক্রিল ল্যান্ডার। বাংলাদেশ পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে এটি তাঁর প্রথম সফর। চু/রি হওয়া ল্যাপটপটিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যক্তিগত ডেটা থাকায় সেটি উদ্ধার করা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার না হওয়া ক্যামেরার সন্ধানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে

