নিজের প্রকৃত পদবি গোপন করে ডিআইজি পরিচয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে টুটুল চক্রবর্তীকে ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত আরও তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত ছুটি শুরুর আগেই ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন জমা না দিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন তিনি। ওই দিন নিজের প্রকৃত পদবি গোপন করে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন।
পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাজশাহী থেকে ঢাকায় যান টুটুল চক্রবর্তী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগেও কয়েকবার নিজেকে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে একই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তিনি।
বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। সরকারি দায়িত্ব পালনের নিয়ম ভঙ্গ এবং প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ও চাননি। পরে তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এরপর গত ১৬ জুন তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরি থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এর আগে টুটুল চক্রবর্তীকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এটি সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নয়। বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে টুটুল চক্রবর্তীকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।









