চামড়ার বর্জ্যেই বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বর্জ্য এখন বড় একটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি পরিণত হতে পারে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায়। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা গেলে বছরে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমানে দেশের ট্যানারি শিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর একটি বড় অংশ যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা গেলে নতুন শিল্পখাত গড়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চামড়ার বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য, কোলাজেনভিত্তিক উপাদান এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে বাড়বে অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

এশিয়া ফাউন্ডেশন ও Practical Action Consulting Bangladesh-এর গবেষণা এবং শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টদের মতামতে উঠে এসেছে, ট্যানারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ালে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে চামড়া শিল্পে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।