শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বৃত্তি পরীক্ষা, প্রতি বছর আয়োজন চান অভিভাবকরা
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন। পরীক্ষায় সন্তানদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবকরা। তাঁদের অনেকেই জানান, এ ধরনের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী করে এবং নতুন বিষয় জানার আগ্রহ বাড়ায়। শুধু ভালো ফল নয়, নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়াও শিশুদের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন তাঁরা।
এক অভিভাবক বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে তাঁর মেয়ে বেশ আনন্দিত। এর আগেও তাঁর দুই মেয়ে ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সন্তানদের আগ্রহ ও আনন্দ দেখে তিনিও খুশি। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর এমন পরীক্ষা আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবে।
আরেক অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়েও এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগেও সে ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাঁর অভিজ্ঞতায়, এ আয়োজন শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়ক। তাই ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ চালু রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।
শিক্ষকদের চোখে ইতিবাচক উদ্যোগ
বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজনকে শিক্ষামূলক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা। খিলপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মুরাদ হোসাইন বলেন, ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য হিসেবে তিনি এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।
তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরীক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ছিল গোছানো ও সুন্দর। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে।
মুরাদ হোসাইন আরও বলেন, গতবার ঢাকায় বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছিল ফাউন্ডেশন। এবার চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অষ্টম শ্রেণির পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যও বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি শিক্ষামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এমন উদ্যোগের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষভাবে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া শাহীনকে ধন্যবাদ জানান এই শিক্ষক। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং শিক্ষা বিস্তারে ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন গোলাম মর্তুজা
বৃত্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা গোলাম মর্তুজা। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা হিসেবে আরও রয়েছেন ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া এবং জহিরুল ইসলাম।
ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা এবং শিক্ষা বিস্তারে সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো। বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতি ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর আয়োজনের প্রত্যাশা
অভিভাবক ও শিক্ষকদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, তাঁরা এ বৃত্তি পরীক্ষাকে এককালীন আয়োজন হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, নতুন কিছু শেখার প্রবণতা তৈরি হবে এবং নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে।
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। তাঁদের আশা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে।