বরেন্দ্র অঞ্চলের বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপগুলো ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং সেচ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে ওই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও BMDA চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুন পারভেজ, BMDA-এর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থায় গভীর নলকূপের ভূমিকা বড়। BMDA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সংস্থাটির ব্যবহৃত গভীর নলকূপের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৫৬০টি। এসব সেচযন্ত্রের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়েছে এবং উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৬২ হাজার।

এই বিশাল সেচ ব্যবস্থার বড় অংশ বর্তমানে বিদ্যুৎনির্ভর। BMDA-এর তথ্য বলছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে স্থাপিত গভীর নলকূপগুলো বর্তমানে বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতে কিছু গভীর নলকূপ ডিজেলচালিত থাকলেও পরে সেগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

সৌরবিদ্যুতে যাওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। BMDA ইতোমধ্যে সেচের বিভিন্ন ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ৫০১টি সেচযন্ত্রে সৌর প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৭ হাজার ৫১৫ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

BMDA-এর চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যেও সেচে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট এলাকায় পরিচালিত একটি প্রকল্পে ১৫৫টি সৌর বা বিদ্যুৎচালিত লো-লিফট পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে সেচে সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সেচে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে পাম্প পরিচালনায় প্রচলিত জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে বরেন্দ্রের মতো খরাপ্রবণ অঞ্চলে সেচের চাহিদা বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোকে টেকসই সেচ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

তবে সব গভীর নলকূপ একসঙ্গে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের কথা বলা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপগুলো ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে কোন পর্যায়ে কতগুলো নলকূপ রূপান্তর করা হবে, তা পরবর্তী পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি মূলত সেচনির্ভর। তাই সেচের প্রযুক্তি ও জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে যুক্ত। নতুন উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সেচ পরিচালনার ব্যয় কমানো যায় কি না, সেটিই হবে এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।