বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে থাকা এসব বাংলাদেশির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে এসব বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন দেশের আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ বিচারাধীন মামলার আসামি, আবার কেউ সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কারাবন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আইনি জটিলতায় পড়লে দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবার মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করেন। তাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য অবস্থান করছেন।

প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে স্থানীয় আইন, অভিবাসন নিয়ম এবং কর্মসংস্থান চুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। অনেক সময় নিয়ম না জানা বা প্রতারণার শিকার হওয়ার কারণে প্রবাসীরা আইনি সমস্যায় পড়েন।

কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয় বা যারা আইনি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন, তাদের বিষয়ে দূতাবাসগুলো সহযোগিতা করে থাকে।

এ ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী দেশে ফেরানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে।

সরকার বলছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কূটনৈতিক মিশনগুলো সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের আইন মেনে চলা এবং বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশের কারাগারে থাকা ১০ হাজার ৬৬ বাংলাদেশির বিষয়টি আবারও প্রবাসী সুরক্ষা, আইনি সহায়তা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।