উত্তরাঞ্চলের আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এই বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ২ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এতে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে
বৈঠকে মন্ত্রী জানান, বগুড়ায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমি প্রয়োজন হবে। সেখানে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে, এমন রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সাধারণত বড় আকারের যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান। এসব উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো বা পণ্য পরিবহনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
তবে প্রকল্পটির জন্য কোথায় কতটুকু জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হবে কিংবা কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় কখন, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিমানবন্দরের পাশাপাশি ফ্লাইং একাডেমি ও বিমানঘাঁটির পরিকল্পনা
বগুড়া বিমানবন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনা শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে একটি ফ্লাইং একাডেমি এবং আধুনিক বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত ৭ মে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বগুড়া বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে। ওই দলে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
পরিদর্শনের পর প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিমানবন্দরটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
আগের পরিকল্পনায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের কথাও জানানো হয়েছিল। বিমানবন্দরটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে
বগুড়া বিমানবন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের বাইরে থাকা এই স্থাপনাকে কার্যকর বিমানবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বগুড়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি পুরোনো ও সীমিত ব্যবহারের বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট। এসব বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগের সুযোগ বাড়তে পারে।
কৃষিপণ্য রপ্তানি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সম্ভাবনা
বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য, দ্রুত পচনশীল খাদ্যপণ্য এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের পণ্য আকাশপথে পরিবহনের সুযোগ বাড়তে পারে। কার্গো সুবিধা চালু হলে রপ্তানিকারকদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহ, পর্যটন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক রুট চালুর ওপর।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি নির্মাণের সময়সূচি
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় জমির বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থায়ন এবং নির্মাণ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।
সম্ভাব্যতা যাচাই, জমি নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং সরকারি অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখনো সামনে রয়েছে।
ফলে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে গেলেও কবে নাগাদ সেখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
