পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তিন শ্রমিকনেতাকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এদিকে তিন নেতার আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁদের মুক্তি দাবি করেছে অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো।
আটক ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আ. হালিম (৩৭), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)।
যেভাবে আটক করা হয় তিন শ্রমিকনেতাকে
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জিরাবো এলাকা থেকে মো. শামীমকে আটক করা হয়। অন্যদিকে বসুন্ধরা-সোনিয়া মার্কেট এলাকা থেকে মো. আ. হালিম ও মো. মনসুর আলীকে আটক করা হয়।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, আটকের পর তাঁদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তি দাবি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের
তিন শ্রমিকনেতাকে আটকের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু।
তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে শ্রমিকনেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলা দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত। আটক তিন নেতাসহ শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য নেতাদেরও মুক্তি দাবি করেন তিনি।
আটক শামীমের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে খায়রুল মামুন মিন্টুর বরাতে বলা হয়েছে, আটক শ্রমিকনেতা মো. শামীম কয়েক দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আটকের সময়ও তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মিন্টু।
তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিংবা আটকের পর চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান মজুরিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে চলমান আন্দোলনে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রেপ্তারের পরিবর্তে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা প্রয়োজন।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি
তিন শ্রমিকনেতাকে আটকের ঘটনায় আশুলিয়ার শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।
শ্রমিকনেতাদের মুক্তি এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।
এখন আটক তিন নেতার বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।