রাজধানীর মিরপুরে মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজেদের দাবি তুলে ধরতে রাস্তায় নামলেও আন্দোলনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নামছি। আমাদের দাবি, আমাদের ৩০ হাজার টাকা স্যালারি। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে আমাদের পোষায় না। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।’
আন্দোলনে রাজনীতি যুক্ত করার অভিযোগ
ওই শ্রমিকের অভিযোগ, তাঁদের বেতন বাড়ানোর দাবি বিবেচনা না করে আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজনৈতিক দলের লোকজনকে মাঠে নামানো হচ্ছে। অথচ তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা তো কারও ক্ষতি করিনি। আমাদের যে দাবি, আমরা শুধু সেটাই তুলে ধরতে চাই। এখানে সরকারি দলের লোকজন নামিয়ে আমাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এখানে কী রাজনীতি করতে এসেছি? আমাদের আন্দোলনে রাজনীতি ঢোকানো হচ্ছে কেন?’
আন্দোলনে বিএনপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পোশাকশ্রমিকদের এই কর্মসূচি মূলত বেতন বাড়ানোর দাবি ঘিরে। এখানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা থাকার কথা নয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
আন্দোলনকারী ওই শ্রমিক পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং শারীরিকভাবে আঘাত করছে।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের প্রোটেকশন দেওয়ার কথা, কিন্তু তারাই অত্যাচার করছে। পুলিশ আমাদের গায়ে হাত তুলছে।’
শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালানোর সুযোগ দিতে হবে এবং ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৩০ হাজার টাকা বেতনই শ্রমিকদের দাবি
শ্রমিকদের বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান বেতন দিয়ে দৈনন্দিন খরচ ও পরিবারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা, সরকার ও পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করে শ্রমিকদের বেতনসংক্রান্ত দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
মিরপুরে শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন, ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কবে নাগাদ শ্রমিকদের অসন্তোষের সমাধান হয়।